একটি শীতবস্ত্রের উপাখ্যান

একটি শীতবস্ত্রের উপাখ্যান

©জয়ী সামসুল

কলকাতার বাতাসে তখন সুইট নভেম্বরের বিষাদ সুর। আমার মন জুড়ে কোল্ডক্রিম, কড়াইশুঁটির কচুরি আর নলেন গুড়ের সুঘ্রাণ। এমনই এক নভেম্বরি বিকেলে, ঢিমে আঁচের রোদকে সঙ্গী করে আমি গেলাম সোয়েটার কিনতে। টার্টলনেক সোয়েটার, স্কার্ফওলা সোয়েটার, কুইল্টেড কোট, হরেকরকম জ্যাকেট দেখার পর যখন আমার চোখে পড়ল হলদেটে বাদামিরঙের একটা ওভারসাইজড wrapকোট, তাতে আবার ভেলভেটের নক্সা করা। কলারটাও খুব সুন্দর ভিকটোরিয়ান ধাঁচের। দাম দেখে ছিকটে এলাম বটে কিন্তু ওই wrapকোটের আভিজাত্য দেখে ঠিক করে ফেললাম এটা কিনতে হবে। তখন কলেজের দ্বিতীয়বর্ষ, হাতে পয়সাকড়িও বেশী নেই। আমার প্রেমিকপ্রবর পাবলো তখন প্রায়ই সাদা একটা হুডি পরে কলেজে আসত। সেটার সামনে আবার বড় বড় করে লেখা ছিল, “ডু নট রিড দ্য নেক্সট লাইন”; তারপর খুব ছোটছোট করে লেখা “ইউ আর আ রেবেল, আই লাইক ইউ।” ওটা দেখে আমারও খুব সাদা হুডি কেনার ইচ্ছে হতো। কিন্তু এই বাদামি কোটটা দেখার পর থেকে সাদা হুডি কিংবা সোয়েটার কেনার ইচ্ছে উবে গিয়ে ওটা পাবার ইচ্ছেই মূর্ত হয়ে উঠল। পাবলোকে সেই কথা বলতে ও মাথা চুলকে বলল, “উপায় একটা আছে। তুমি কি রাজি হবে?” আমি কোনোরকম চিন্তা না করেই বললাম, “বল বল…রাজি হব না কেন?”

পাবলো বলল, “আমরা দু’জনে মিলে ওই কোট কিনে ফেলতেই পারি।” ওর ফান্ডা আমারও খুব ভাল লাগল।  সেইমতো আমরা আমাদের দু’জনের টাকা মিলিয়ে কিনে ফেললাম সেই লম্বা, দীর্ঘায়িত কলারওয়ালা বাদামি কোট। ঠিক হল দু’জনেই ওটা পরব সময় সুযোগমতো। আমি কোথাও বেড়াতে গেলে বা নেমন্তন্নবাড়ি গেলে পরব, ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে কোথাও গেলে কিংবা রেস্তোঁরাতে খেতে গেলে পরবে। কেনার পর ও বলল, “আপাতত তুমি এটাকে বাড়ি নিয়ে যাও, দরকার হলে আমি চেয়ে নেব।” সেদিন আমার আনন্দ দেখে কে। বাড়ি ফিরে খুব যত্ন করে আমার সদ্য কেনা wrapকোট তুলে রাখলাম। বাড়িতে দামের ব্যাপারটা চেপে গেলাম। এরপর একদিন এক আত্মীয়ের বাড়িতে গেছি ওই কোট পরে। ওই আত্মীয়া প্রথমে অত খেয়াল করেননি, কিন্তু আমাকে ছোট্ট একটা প্লেটে পেস্ট্রি এগিয়ে দিতে গিয়ে ওঁর নজরে পড়ল আমার বাদামি ভিকটোরিয়ান কোট। উনি আরেকটু হলেই প্লেটটি আমার গায়ে ফেলে দিতেন। শেষে নিজেকে সামলে নিয়ে গল্প করতে লাগলেন। ওনার মেয়ের গল্প, ইউরোপে কতটা ঠান্ডা পড়ল, তাতে কলকাতার কি এসে গেল এই জাতীয় সব আগডুম বাগডুম গল্প শুনতে বিরক্ত লাগলেও শুনতে হল। মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখি মা’ও ওনার গল্প শুনে হাসছে। যাই হোক আমি বুঝলাম যে এই কোট পরলে সবাই আমাকে নিয়ে একটু উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে। আসলে এই কোট পরলে যে কোন ব্যক্তিকেই হেলাফেলা ভাবা মুশকিল। কোট বাবাজী’র কান্ড দেখে আমার ভীষণ গর্ব হল। এদিকে শ্রীমানকে এই কথা বলতে সে তো হেসে লুটোপুটি।

আমাদের মধ্যে একটা অলিখিত চুক্তি ছিল যে আমরা দু’জন যখন একসাথে বেরোব তখন আমরা রোটেশন করে কোট পরব, মানে একদিন আমি পরলে পরদিন ও। যে দিনগুলোতে ও কোট পরবে সেদিনগুলোতে পরার জন্য আমি এসপ্ল্যানেড থেকে একটা সস্তার পিচরঙা পুলওভার কিনেছিলাম। একদিন আমরা একটা কফিশপে গেছি, হঠাৎই পাবলো অসাবধানতাবসত টেবিলে কফি উল্টে ফেলল আর সেই কফি ছলকে গিয়ে কোটে লাগল। আমার খুব রাগ হল, ওকে বকাবকি করলাম, রুমাল দিয়ে তখনকার মতো কফি মুছে দিলাম কিন্তু একটু দাগ সেই থেকেই গেল। তখন ভেবেছিলাম বাদামি কোট, বাদামি কফি অত বোঝা যাবে না। কিন্তু পরে দেখলাম একটু হলেও দাগটা বোঝা যাচ্ছে।
এই ঘটনার দিন দশেক পর আমি একটা অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানে আদরের কোটটা পরে গেলাম। এবং খেতে গিয়ে খুব সুন্দরভাবে আমার রাজকীয় বাদামি কোটে মোমোর সুপ্ ঢেলে ফেললাম। সুপ্ যদিও ট্যালট্যালে হয়, কিন্তু আমি আবার সুপের মধ্যে সস মিশিয়ে নিয়েছিলাম। ফলত, শখের কোটের যে কি অবস্থা হল তা বলাই বাহুল্য। আমার রীতিমতো কান্না পাচ্ছিল; তবু কোনোরকমে কান্না চেপে বাড়ি ফিরে গেলাম। সেদিন রাতেই ওই সসের দাগ তা ডিটারজেন্ট দিয়ে ওঠালাম। ঠিক করলাম একবার ড্রাইওয়াশ করিয়ে নেব। সেদিন ও কফি ঢেলে ফেলায় অত রাগ করেছিলাম বলেই বোধহয় আমার নিজের হাত দিয়ে সুপ্ উল্টে গেল।
এই কথা ওকে বলতেই পাবলো প্রথমে ছদ্ম রাগ দেখাল, তারপর হো হো করে হাসতে লাগল; দুষ্টুমির হাসি হেসে বলল, “দেখ, দেখ…আমায় বলছিলে না আমি বাচ্চাদের মতো কফি উল্টে ফেলেছি…”। আমি আর কি করব…নিজের ওপর রাগটা সম্বরণ করে হাসিতে যোগ দিলাম। ড্রাইওয়াশ করতে ভালই খসেছিল, কোটটিও আগের অবস্থায় ফিরে এসেছিল। এরপর একদিন কলেজে ফেস্ট আর সাথে আমাদের ইয়াব্বড় অ্যাসাইনমেন্ট। আমি বাড়িতে বসে অ্যাসাইনমেন্ট লিখছি আর পাবলো ফেস্ট এ গেছে। আমি লিখে লিখেও কিছুতে শেষ করতে পারছিনা আর তিনি ওখানে নাচানাচি করছেন। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল কোট তখন ওনার জিম্মায়। ঠিক আছে, সেই নিয়েও আমার মাথাব্যথা নেই; কোট তো দু’জনেরই। পরদিন সকালে যখন কলেজে গেছি দেখি সবাই অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করতে মরিয়া। পাবলো সেদিনও অনেক দেরি করে কলেজে এল। ও এসে বলল ঘুম থেকে উঠতে নাকি দেরি হয়ে গেছিল। যদিও আমি দেরিতে আসার আসল কারণ জানতাম। আগের দিন অত নাচানাচি করলে কলেজে আসতে দেরিতো হবেই। যাই হোক ওকে আমার অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে দিলাম আর ও সেটা দেখে টুকেও নিল। সেদিন বিকেলে কোট ফেরত দিল ও। আমি তো কোট নিয়ে বাড়ি চলে গেছি; তুলে রাখতে গিয়েও ভাবলাম একবার পকেটগুলো দেখি তো, যেন ভারী ভারী লাগছে।
হাত দিয়ে দেখি বাঁদিকের পকেটে একটা কিংসাইজের চকলেট বার। বুঝলাম ওই নাচানাচির জন্য আমাকে ঘুষ দেওয়া হয়েছে যাতে বেশী রাগারাগি না করি। আমি উপহার দেওয়ার ধরণ দেখে খুশি হলাম; আমি এমনিতেই চকোলেটের পোকা, তার ওপর সেটা বেরিয়েছে প্রিয় কোটের পকেট থেকে। ঠিক যেমন মোজার মধ্যে থেকে উপহার পেলে বড়োদিনে বাচ্চারা খুশি হয়। ঠিক করলাম আমিও কিছু রেখে দেব ওই কোটের পকেটের ভেতরে। আমি ওকে এককৌটো সল্টেড কাজুবাদাম দিয়েছিলাম। এভাবেই আমরা শীতকাল জুড়ে ওই কোটের পকেটে করে চিঠি, ফুল, কুকিজ, চকোলেট, বাদাম, ছোট্ট টেডি, প্রচ্ছন্ন হুমকি…না জানি আরও কত কি চালাচালি করেছিলাম।

আমাদের জীবন যেমন এক সোয়েটার থেকে অন্য সোয়েটারে বয়ে যায়, সম্পর্কও তাই। কোটেরও ভেলভেট মলিন হল, কলারে ধুলো জমল, একটা বোতাম খসে পড়ল। বোতাম যদিও সেলাই করে নিয়েছিলাম, পাবলোর সাথে সম্পর্কটাকে সেলাই করতে পারিনি। আমি তো আর বাবুই পাখি নই। তাই আমার সাধের কোট যেদিন দর্শিনীকে পরতে দেখলাম, মনে হচ্ছিল কোটটা নিয়ে ছুঁড়ে রাস্তায় ফেলে দিই; গাড়ি চলে যাক ওটার ওপর দিয়ে, পৃষ্ঠ হোক পদাঘাতে। প্রসঙ্গত, তখন আমাদের সংঘাত চরমে। কথা কাটাকাটি চলছে খুব, মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আসলে আমাদের মধ্যে যত ঝগড়া, তত গলায় গলায় ভাব। ওরকম প্রায়ই হত; তাই আমিও অত মাথায় ঘামাইনি। সেদিন ঝগড়াটা শুরু হয়েছিল সামান্য খুনসুটি দিয়ে।

পাবলোকে জিজ্ঞেস করলাম, “আমাদের কোট দর্শিনী পরেছিল কেন?” ও দেখলাম স্বাভাবিক গলায় বলল, “গতকাল আমরা লাইব্রেরিতে বসে নোটস বানাচ্ছিলাম। ফেরার সময় দর্শিনী বলল ও সোয়েটার আনতে ভুলে গেছে। রাতের দিকে শীতটাও  একটু বেড়েছিল, তাই ওকে পরতে দিয়েছিলাম।” পাবলোর কথা শুনে আমার ভারী রাগ হল। আমাদের সোয়েটার দর্শিনীকে পরতে দিয়েছে, আবার কোনো অনুশোচনাও নেই। বললাম, “ওটা তুই রেখে দে, আমার আর চাইনা। যখন ইচ্ছে, যাকে খুশি পরতে দিবি।”
“আরে রাগ করছ কেন? সেদিন আমার তো একটা জ্যাকেট ছিল; ও বেচারি হালকা কটনের শার্ট পরেছিল…”
“ভাবছি তোমার একটা নতুন নাম দেব…’উপকারের দেবতা’।” আমি মুখে এটা বললাম বটে কিন্তু মনে মনে খুব রাগ হল দর্শিনীর ওপর। আমার বিশ্বাস ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে কোটটা নিয়েছিল। এরপর থেকে আমি সেই কোট আর কোনোদিন পরিনি। পরতে ইচ্ছে হয়নি। কোটটাও পুরোনো হয়ে এসেছিল। পাবলোর কাছেই ওটা বেশিরভাগ সময় থাকত।
কিছুদিন পর আমি সপরিবারে কার্সিয়াঙে বেড়াতে গেলাম। বন্ধুত্ব হল নিশা ছেত্রীর সঙ্গে। বছর সতেরোর মেয়েটি হোটেলের গাছগুলোর পরিচর্যা করতে আসত প্রতিদিন সকালে। তার পরনে বরাবর একটা জীর্ণ রংচটা খয়েরি সোয়েটার। নিশাকে বললাম, “আমার কাছে একটা উলের কোট আছে। তুই নিবি?” নিশাকে ঘরে নিয়ে এসে কোটটা দেখলাম। ও নিতে একটু ইতস্তত করছিল; কিন্তু আমি যখন কোট ওর গায়ে জড়িয়ে দিলাম, ওর মুখে সে কি অপার্থিব হাসি। সেই প্রথম কারো মুখে হাসি ফুটিয়ে মনে মনে গর্ববোধ করলাম। নিশা বলল, “দিদি, তোমার অন্য সোয়েটার আছে তো?” আমি বললাম, “হ্যাঁ রে, এই তো তোদের কার্সিয়াং থেকে কিনে নিয়েছি।” আসলে বাচ্চা মেয়েটা ঠান্ডায় কাঁপতো, সেটা আমার ভাল লাগত না। পাবলোকে ফোন করে একথা বলতেই ও খিলখিলিয়ে হেসে বলল, “উপকারের দেবী যখন দিয়েছে, আমার আর কি বলার থাকতে পারে।” বুঝলাম, ও কথাটা অভিমানের সুরে বলল। ওই কোট জুড়ে আমাদের দু’জনের কত স্মৃতি; তাই কোট কাউকে দান করে দেওয়াটা ওর ভাল লাগেনি। তাই ওর অভিমানে প্রলেপ দিতে বললাম, “আমরা খুব সুন্দর দেখে একটা কুইল্টেড জ্যাকেট কিনব এরপর।”
দুর্ভাগ্যবশত সেটা আর হয়ে ওঠেনি। একটা কোট কিংবা সোয়েটার ভাগাভাগি করে পরা তো দূরের কথা, একসাথে নন্দন যাওয়া বা কফিশপে বসাও হয়নি। ও চাকরিসূত্রে অন্যশহরে চলে গেল আমি কার্সিয়াং থেকে ফেরার আগেই, কিছুদিন পর আমিও কলকাতা ছাড়লাম ওই একই কারণে। প্রতিবার শীতকাল এলেই আমি ঠিক করি একটা সুন্দর দেখে সোয়েটার কিনব। আজকে ভাবি ওই কোটটা যদি নিশাকে না দিতাম, আমার কলেজপ্রেমের একটা স্মৃতি অন্তত থেকে যেত। পাবলোর অভিমানটা আজকে বুঝি, কিন্তু এখন যে বড্ড দেরি হয়ে গেছে।

বিঃ দ্রঃ : গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক; কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।  

Advertisements

ট্রাফিক জ্যামের শহর

পূর্ব পরিচিত,

যদি ভীষণ কর্মব্যস্ত শহরের ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ি,
তবে নিশ্চই তোমাকে মনে পড়বে।
যদি সামান্য মিছিল হলেই সার বেঁধে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়,
যদি সকালে কার্ড পাঞ্চ করার তাড়ায় অস্থির হয়ে উঠি
আর ঠিক তখনই অবরোধ শুরু হয়
তবে তোমায় মনে পড়বে।
যদি সন্ধ্যেবেলায় ভীষণ ভিড়ে আটকে পড়ি,
কোনদিক দিয়েই পরিত্রাণের রাস্তা না থাকে,
যদি শুধু বাসে বসে গলদঘর্ম হই,
যদি ফোনটা হাতে নিয়ে হোয়াটস্যাপটুকুও দেখতে না ইচ্ছে করে
তবে নির্ঘাত তোমায় মনে পড়বে।
হয়তো বসে থাকব, সেই বিরক্তির স্রোতের মধ্যেও
আর দেখব, অন্যের ভিডিও কল, জোরে জোরে গান শোনা,
এতটুকু বিচলিত না হয়ে মুভি দেখা,
হয়তো তোমাকে ভুলতে উঁকি দেব তাদের মোবাইলে
তারা বিরক্ত হবে, বন্ধ করে দেবে ফোন, কিংবা সরিয়ে নেবে,
আমার নাগালের বাইরে,
আমি বাইরে তাকাব, রাস্তায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির স্রোত,
ঘড়ির কাঁটায় আটটা দেখে হা হুতাশ করব,
গল্পে পড়া মরুভূমির উটের সারির কথা মনে পড়বে,
সাদা গাড়ির আধিক্য দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলব,
কালো গাড়ির কালোকাঁচ দেখে ঈর্ষা করব,
হলদে ট্যাক্সির জন্য মনকেমন করবে,
তোমার সাথে ট্রামভ্রমণের স্মৃতি উস্কে যাবে,
ওলা ক্যাব দেখে মুচকি হাসব,
আর এসবের মধ্যেই তোমাকে ভুলে যাওয়ার,
ভুলে থাকার ভীষণরকম চেষ্টা করব।
তবু ট্রাফিক জ্যাম রোজই হবে,
আর রোজ না চাইলেও তোমাকে মনে পড়বে !

The shade of yellow

The afternoon was sunny. We fought with words and slayed each other with the swords of hatred and love. And you left never looking back, never giving a fig. Your yellow dress slowly mingled with other people walking in the busy street. I stood there, alone, motionless, broken and upset. I looked at the street lights, the crowd and felt the boisterous noises surrounding me. I found myself standing before a very famous café and people inside might be engaged either in small talks or heavy conversations. They might be enjoying their cappuccino or espresso. The lights inside the cafe were pale yellow. That very shade of yellow carries a color of frustration. I lit up a cigarette.

By chance, my eyes caught a couple inside the café; they were too adorable, intensely engrossed in each other, sipping the cold coffee from the same long glass. I felt bad…for myself, for my girlfriend and for our love.

Evening is the time when you are bound to be alone or sad. I tried to control myself, stop my tears, tried to look at other girls walking in stilettos and hotpants. I tried to avert myself from her thoughts. I lit up another cigarette. The smoldering fire was trying to calm me down. I remembered how many counters we shared. Again my eyes rolled into the cafe. The lights inside were still dim but slightly brighter than earlier due to the upcoming darkness. And finally it darkened. I decided to have something from the cafe and walked inside. The sweet creamy pastry seemed insipid to me and the milky coffee didn’t give me any charm. I ordered a cupcake. It came in a white dish; the cake topped with a little chocolate ball and a little candy floss. Surprisingly I enjoyed it like girls do. I enjoyed the cupcake as if she was with me. Slowly, the thought separation walked out of my head and I only thought of the still fresh memories. I remembered how much she loved the cupcakes.

I looked at the streets. A child was selling roses. Another child was busy selling balloons to a child sitting inside a car. I packed a box of cakes and went outside. The busy city walks around, rides bikes and cars never showing some love to the street children.

When I distributed the cakes among children I saw the café lights glowing in brightest shade of yellow.

©Joyee